লক্ষ্মীপুর জেলার কমলনগর উপজেলার মেঘনা নদীবেষ্টিত উপকূলীয় এলাকাগুলোতে এখন জেলেদের কর্মব্যস্ততা তুঙ্গে। সামনে ইলিশের মৌসুম ও নদীতে মাছ ধরার প্রস্তুতিকে কেন্দ্র করে জেলেরা তাদের পুরনো নৌকা মেরামত এবং নতুন নৌকা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।.
মুখরিত উপকূলীয় ঘাটসমূহ.
সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন ঘাট ও নৌকা তৈরির আড়ত ঘুরে দেখা যায়, দিনরাত হাতুড়ি আর বাটালের শব্দে মুখরিত চারপাশ। আসন্ন মৌসুমকে সামনে রেখে উপকূলীয় জনপদে বইছে প্রস্তুতির আমেজ। কোনো ঘাটে জেলেরা নৌকায় আলকাতরা মাখছেন, কেউ বা ফেটে যাওয়া অংশ তালি দিয়ে মজবুত করছেন। আবার অনেক ঘাটে দেখা গেছে নতুন নৌকার কাঠামো তৈরির দৃশ্য।.
কারিগরের নিপুণ ছোঁয়ায় আগামীর স্বপ্ন.
নৌকা তৈরির কারিগর (মিস্ত্রি) মনির হোসেন দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে এই পেশায় নিয়োজিত। তার নিপুণ হাতে তৈরি নৌকা মেঘনার উত্তাল ঢেউয়ে টিকে থাকে বছরের পর বছর। নিজের দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে তিনি বলেন:.
"আমি দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে নৌকা বানানোর কাজ করে আসছি। এটাই আমার একমাত্র পেশা এবং এর মাধ্যমেই আমি আমার জীবিকা নির্বাহ করি। আমাদের হাতে তৈরি নৌকার ওপর নির্ভর করেই শত শত জেলে পরিবার নদীতে মাছ ধরতে যায়।".
জেলেদের প্রস্তুতি ও সীমাবদ্ধতা.
স্থানীয় জেলেরা জানান, নদীতে মাছ ধরেই চলে তাদের সংসার। ঝোড়ো হাওয়া আর বড় বড় ঢেউয়ের সাথে লড়াই করতে হলে নৌকার মজবুতি সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। তাই মৌসুম শুরুর আগেই দক্ষ মিস্ত্রি দিয়ে নৌকা মেরামত করিয়ে নিচ্ছেন তারা।.
তবে জেলেরা আক্ষেপ করে জানান, কাঠ, লোহা ও অন্যান্য উপকরণের দাম অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় নতুন নৌকা তৈরি এখন বেশ ব্যয়বহুল হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাড়তি খরচ সামাল দিতে হিমশিম খেলেও জীবিকার তাগিদে ধার-দেনা করেই নৌকা প্রস্তুত করছেন জেলেরা।.
প্রত্যাশা.
ইলিশের মৌসুমে নদীতে পর্যাপ্ত মাছ পাওয়া গেলে এবং আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এই বিনিয়োগ পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে বলে আশা করছেন কমলনগরের মেঘনা উপকূলের হাজারো জেলে।. .
ডে-নাইট-নিউজ / নাসির মাহমুদ, লক্ষ্মীপুর জেলা প্রতিনিধি
আপনার মতামত লিখুন: